আন্তর্জাতিকনিউজ

পৃথিবীর সবাইকে কোটিপতি করে দিতে পারে সোনাই মোড়া এই গ্রহাণু! আটঘাঁট বেঁধে অভিযানে নামছে NASA

মহাকাশে এমন অনেক বিস্ময়কর গ্রহাণু রয়েছে যা আমাদের কল্পনার অতীত। তেমনি এক গ্রহাণু হলো গোল্ড মাইন অ্য়াস্ট্রয়েড বা স্বর্ণখনি গ্রহাণু। এই গ্রহাণুটি পৃথিবী থেকে ২০ কোটি মাইল দূরে অবস্থান করে। যারা মহাকাশ চর্চা করে তাদের কাছে এই গ্রহাণু কি একটি বিস্ময়। আপনি কি জানেন এই গ্রহাণুর মধ্যে এতটাই ধন-সম্পদ আছে যা এই পৃথিবীতে আনতে পারলে পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষ হয়ে যাবে কোটিপতি। আর এবার এই গুপ্তধন পূর্ণ গ্রহাণু অধ্যায়নের জন্য অভিযানে নামতে চলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা।

২০২৬ সালেই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা সাইকি ১৬ তে পৌঁছে যাবে। নাসার মহাকাশযান ২১ মাস ধরে প্রদক্ষিণ করবে সাইকি ১৬’ গ্রহাণুর কক্ষপথ।সাইকি ১৬-র বৈশিষ্ট্যগুলি অধ্যয়ন করার জন্য আকাশ থেকেই মাল্টিস্পেক্ট্রাল ইমেজার, গামা-রে এবং নিউট্রন স্পেকট্রোমিটার, ম্যাগনেটোমিটার এবং মাধ্যাকর্ষণ পরিমাপের জন্য রেডিও যন্ত্রাদি ব্যবহার করবে নাসা।

সাইকি ১৬ তে ঠিক এতটাই ধন-সম্পদ কাছে যে তা পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে করে দিতে পারে কোটিপতি। কেন এমনটা বলা হচ্ছে অন্যান্য গ্রহাণু থেকে কি আলাদা রয়েছে এই গ্রহানুতে? বৃহস্পতি এবং মঙ্গল গ্রহের মধ্যবর্তী গ্রহাণু বেল্টে অবস্থিত সাইকি ১৬। ১২৪ মাইল জুড়ে এলাকা নিয়ে গঠিত স্থানটিতে প্রায় ১০,০০০ কোয়াড্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য ধাতু রয়েছে। ১ কোয়াড্রিলিয়ন মানে ১,০০,০০,০০০ কোটি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন অন্যান্য গ্রহাণু যেখানে পাথর এবং বরফ দিয়ে গঠিত সেখানে সাইকি ১৬ তৈরি হয়েছে লোহা এবং নিকেল দিয়ে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে ঠিক কতটা মূল্যবান সম্পদ লুকিয়ে রয়েছে এই গ্রহাণুতে। বিজ্ঞানীরা আরো অনুমান করছেন সৌরজগতের গঠনের সময় কোনও অন্য মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় প্রোটোপ্ল্যানেট বা সম্ভাব্য গ্রহের। আর তার ফলে সেই গ্রহটি গঠিত হতে পারেনি, আর তার কোর অংশটি সাইকি ১৬ গ্রহাণু রূপ ধারণ করেছে। এই বিষয়টি কতটা সত্যি তা জানা যাবে নাসার অভিযানে।

সাইকি ১৬ গ্রহাণুটি সবার প্রথম মানুষের চোখে পড়েছিল ১৮৫২ সালে। ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যানিবেল ডি গ্যাসপারিস এটিকে আবিষ্কার করেছিলেন।গ্রীক দেবী সাইকি-র নামে গ্রহাণুটির নামকরণ করেন অ্যানিবেল। এতদিন এই গ্রহাণুটিকে মানুষ কেবল কল্পনাই করেছিল তবে এই প্রথমবার তার কাছাকাছি পৌঁছাতে চলেছে মানবসভ্যতা।

নাসার এই অভিযানে থাকছেন এক ভারতীয় বিজ্ঞানীও। নাম কল্যাণী সুখতমে। নাসা সূত্রে জানা গিয়েছে কল্যাণী এই অভিযানের পেলোড ম্যানেজার।নাসার ওয়েবপেজ থেকে জানা গেছে কল্যাণী সুখতমে দুইন গণিতের অধ্যাপকের কন্যা। বড় হয়েছে মুম্বাইয়ে।মুম্বাইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ১৯৯৩ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং ফিজিক্সে ব্যাচেলর অব টেকনোলজি লাভ করেন কল্যাণী। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি দেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে তিনি নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে কর্মরত ।

Tags

Related Articles

Close