×

কেন ‘যৌনপল্লীর’ মাটি ছাড়া তৈরি হয় না মা দুর্গার মূর্তি? এর পিছনের কারণে জানলে চমকে যাবেন

সমাজের চোখে অশুচি যারা তাদের উঠানের মাটি ছাড়া নাকি অপূর্ণ দেবী দুর্গা। কারণ জানতে পড়ুন পুরো খবরটি বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পুজা। বাঙালী সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে পূজার চারটি দিনের জন্য। একটা আলাদা ভালো লাগা, একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে পুজোর কটাদিন। অগাস্ট মাস চলছে। এবছর পুজো আস্তে মাঝে মাত্র দুটো মাস বাকি। অনেকে তো এর মধ্যেই পুজোর কেনা কাটাও শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু এই পুজোর সম্মদ্ধে এমন অনেক বিষয় আছে যা আমরা সম্পূর্ণ জানিনা। যেমন আমরা জানি কি মায়ের মূর্তি তৈরিতে কোন মাটি ব্যবহৃত হয়? কেন সেই মাটি ব্যবহৃত হয়? না জানলে, চলুন জেনেনি আজকের প্রতিবেদনে।

মা দুর্গা হলে পবিত্রতা, শুদ্ধতা, শুভ্রতার প্রতীক। কিন্তু অনেক মানুষই জানেন না যে সেই মায়ের মূর্তি গড়তে লাগে বেশ্যালয়ের মাটি। শুধু বেশ্যালয়ের মাটিই নয় তার সাথে লাগে গঙ্গার জল, গোমূত্র, গোবর এবং ধানের শীষ। এই পাঁচের মিশ্রনে কুমারের শৈল্পিক ছোয়ায় ধীরে ধীরে গড়ে মৃন্ময়ী মায়ের অবয়ব। এখানে মনে হতে পারে মাটি বাদে বাকি চারটি জিনিসই হিন্দু মতে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। তবে বেশ্যালয়ের মাটি কেন?

মায়ের মূর্তি তৈরিতে বেশ্যালয়ের মাটি লাগে তার কয়েকটি কারণ আছে। সমাজের চোখে বেশ্যাদের ভালো চোখে দেখা হয় না। কালে কালে তাদের উপর জমেছে বাঞ্চনা ও অবজ্ঞার, অবহেলার পাহাড়। শাস্ত্র মতে কোনো পুরুষমানুষ নিজের কামনা পূরণে কোনো বেশ্যাখানায় গিয়ে কোনো বেশ্যার সাথে মিলিত হয় তখন সেই ব্যক্তি তার জীবনের সকল সঞ্চিত পুন্য ফেলে আসে বেশ্যালয়ে, বদলে ফেরত নিয়ে যান পাপের বোঝা। পুরুষের কামনা, বাসনা ও লালসা নিজের মধ্যে ধারণ করে সেই বেশ্যা। এইভাবেই তারা নিজেদেরকে অশুদ্ধ ও অপবিত্র করে সমাজকে ক্লেদ মুক্ত করে তোলে। ফলে হাজার হাজার পুরুষের পুণ্যে বেশ্যালয়ের মাটি হয়ে ওঠে পবিত্র ৷ সে কারণেই এই মাটি দিয়ে গড়তে হয় মায়ের মূর্তি ৷

নারীর ঔরসেই পুরুষের জন্ম। কোনো নারী নিজে থেকে বেশ্যা হতে পারেনা, নারীকে বেশ্যা বানায় পুরুষ। তাই সেই নিচ পুরুষরাই অপবিত্র। নারী কখনো অপবিত্র নয়। তাই মায়ের মৃন্ময়ী প্রতিমা গড়তে প্রয়োজন হয় পতিতালয়ের পবিত্র মাটি। আর এভাবেই সম্মান জানানো হয় সেই সব মানুষ গুলি কে প্রতিনিয়ত সমাজের কলঙ্ককে বুকে টেনে নিয়ে সমাজ কে কলুষ মুক্ত করে চলেছে।