নিউজরাজ্য

রেশন ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক রদবদল, নয়া সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

করোনা সংক্রমণ রুখতে দীর্ঘদিন দেশ তথা রাজ্যজুড়ে চলেছে লকডাউন। যার জেরে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই তাদের হেঁসেলে পড়েছিল টান। এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষের কাছে রেশন পরিষেবায় একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বহু রেশন কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এদিকে সামনেই ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন। বিরোধীরা রাজ্য সরকারের ওপর একের পর এক অভিযোগ তুলছে। তাই রেশন ব্যাবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বিরাট পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যের খাদ্য দফতর।

এই নতুন ব্যাবস্থায় রেশন কার্ডের সাথে যুক্ত করা হবে গ্রাহকদের আধার এবং মোবাইল নম্বর। করোনা আবহের মধ্যেই রেশন বণ্টন নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য দফতর।তবে এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কোনরূপ তাড়াহুড়ো না করে সবরকম সতর্কতা-বিধি মেনে ধীরে সুস্থে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে ভিড় এড়ানোর জন্য উপভোক্তাদের মাসের ৩য় এবং ৪র্থ সপ্তাহে আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর এবং রেশন কার্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেশন ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে ‘ই-পস’ যন্ত্রের মাধ্যমে উপভোক্তার ডিজিটাল রেশন কার্ডের নম্বরের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত হবে। পরের ধাপে যুক্ত হবে মোবাইল নম্বর। এরপরে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ‘ই-পস’ যন্ত্রের মাধ্যমে উপভোক্তারা রেশন তুলতে পারবে। এছাড়া যদি বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সফল না হয় তাহলে উপভোক্তারা তাদের মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে তুলতে পারবে রেশন। খাদ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ‘রেশন ডিলার গ্রাহকের রেশন কার্ড-আধার-মোবাইল নম্বর যুক্ত করতে বাধ্য। সরকারের লক্ষ্য, গোটা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে আসা। উপভোক্তাদের যাতে রেশন তুলতে কোনরূপ অসুবিধা না হয় তাই এরূপ সিদ্ধান্ত।’

রেশন নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পরে রেশন ডিলারদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। রেশন ব্যাবস্থায় যাতে আর কোনো দুর্নীতি না হয় সেই ব্যাপারে খাদ্য দফতরকে অন্যরকম কৌশল অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাই চালু করা হচ্ছে এসএমএস ও বায়োমেট্রিক পরিষেবা। প্রশাসন সূত্রে খবর, রেশন কার্ডের সংখ্যা এই রাজ্যে প্রায় ১০ কোটি। এর মধ্যে বহু উপভোক্তাদের মোবাইল নম্বর খাদ্য দফতরের কাছে নেই। তাই সেগুলো জোগাড় করতে হবে। নতুন ব্যাবস্থায় উপভোক্তাদের রেশন বণ্টনে প্রত্যেক মাসে কয়েক লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু স্বচ্ছতা আনতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতেও রাজি খাদ্য দফতর।

Tags

Related Articles

Close