নিউজ

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারঃ সামরিক শক্তিতে প্রথম আমেরিকা, কত নম্বরে ভারত-চীন? দেখে নিন তালিকা

কিছুদিন আগেই লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন সংঘর্ষ শহীদ হয়েছেন ২০ জন জাওয়ান। কিন্তু অন্যদিকে বেশ কয়েকটি দেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তৈরী হতেই পারে উত্তেজক কোনো পরিস্থিতি। এমত অবস্থায় সামরিক শক্তির তালিকায় কোন দেশ এগিয়ে পিছিয়ে তা জানা অত্যন্ত জরুরী। আর তাই ইতিমধ্যেই গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার সংস্থা তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনীর তালিকা তৈরি করেছে। সেই তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

বলে রাখা ভালো ২০০৬ সাল থেকে এই তালিকা বানাচ্ছে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার। মোট ১৩৮টি দেশের তুল্যমূল্য বিচারের পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে সংস্থা। মূলত সেনাবাহিনীর সংখ্যাকেই বিচার করা হলেও সামরিক অস্ত্রভান্ডারের বৈচিত্রকেও বিবেচনা করা হয়েছে। ভারত-চিন, ভারত-পাকিস্তান, চিন-আমেরিকা, ইরান-আমেরিকা এবং উত্তর কোরিয়া-আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে।বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি অবস্থান খতিয়ে কোন কোন দেশ এগিয়ে রয়েছে সামরিক শক্তির বিচারে তার একটি তালিকা তৈরি করেছে সংস্থাটি।

তালিকা অনুযায়ী শক্তির শিখরে রয়েছে আমেরিকা, তারপর রাশিয়া তৃতীয় স্থানে চিন এবং চতুর্থ স্থানে ভারত আর পঞ্চম স্থানে জাপান। একনজরে রইল তালিকা-

প্রথম স্থান:গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর মতে, ‘সেনা-শক্তিতে ফের বিশ্বের শীর্ষে আমেরিকা।’ মার্কিন মুলুকে রয়েছে ১৪ লাখের বেশি যুদ্ধে প্রস্তুত সেনা। এছাড়াও রয়েছে ৩৯,২৫৩ সাজোঁয়া গাড়ি এবং ২০টি এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বায়ুসেনাতেও বিশ্বের শীর্ষে মার্কিন মুলুক। ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন-বাজেট বরাদ্দ- ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। ওদের কাছে রয়েছে, ২০৮৫ ফাইটার্স, ৯৬৭ অ্যাটাক হেলিকপ্টার্স, ৯৪৫টি ট্রান্সপোর্টস এবং ৭৪২টি স্পেশাল মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট। নৌসেনাতেও পরাক্রমী আমেরিকা। মার্কিন নৌ-বাহিনীর কাছে রয়েছে ৯১ ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ।

দ্বিতীয় স্থান:চলতি বছরে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইউক্রেন ও সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করা রাশিয়ার সেনাবাহিনী রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ১০ লাখের বেশি সক্রিয় সেনা প্রস্তুত রয়েছে মস্কোর কাছে। এছাড়াও আমেরিকার থেকে দ্বিগুণ ট্যাংক রয়েছে রাশিয়ার (১২,৯৫০)। কমপক্ষে ২৭,০৩৮টি সাজোঁয়া গাড়ি রয়েছে রুশ অস্ত্র ভান্ডারে।

তৃতীয় স্থান:এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ চিন এই তালিকায় রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে চিনবেজিংয়ের কাছে রয়েছে ২১ লাখের বেশি সেনা। রয়েছে ৩৩ হাজার সাজোঁয়া গাড়ি, ৩৫০০ ট্যাংক। চিনা বায়ুসেনার কাছে রয়েছে ১২৩২। চিনা নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে ৭৪টি সাবমেরিন, ৩৬টি ডেসট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ এবং ৫২টি রণতরী।

চতুর্থ স্থান:যে কোন সময় যুদ্ধ প্রস্তুতির সক্রিয় সেনা সংখ্যা ভারতের ১৪ লাখের বেশি। তাই চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। ভারতীয় বাহিনীর কাছে রয়েছে ৪২৯২ ট্যাংক, ৪০৬০ কামান এবং ৫৩৮টি ফাইটার এয়ারক্র্যাফ্ট। পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যার কারণে গোটা বছরই সক্রিয় থাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে রাশিয়া, আমেরিকা-সহ বহু দেশের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট ৬১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে জাপান। বিশ্বের পঞ্চম সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক দেশ জাপান। ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা বাজেটে ৪৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা জাপানের কাছে রয়েছে ১০০৪ ট্যাংক এবং ১১৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Close