রাজ্য

নতুন নিয়ম অনুযায়ী এবার থেকে শুধু লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই স্কুল শিক্ষক নিয়োগ

Advertisement
Advertisement

দেবপ্রিয়া সরকার : উচ্চ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এবার থেকে স্কুল শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল তৈরি হবে শুধু লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই। এটি পূর্ববর্তী কাউন্সেলিং পদ্ধতির আর কোন স্থান নেই। এছাড়াও আগে যেরকম প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিভিন্ন ডিগ্রী নাম্বারে ভিত্তিতে প্যানেল তৈরি হতো সেই ব্যবস্থাকে একেবারে নস্যাৎ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে আর প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিভিন্ন ডিগ্রির নাম্বার বিবেচিত হবে না। কলকাতার গেজেটে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শিক্ষা দপ্তর। তবে এই সিদ্ধান্ত সবাই সাদরে আমন্ত্রণ জানায়নি। এই নিয়ে শিক্ষা শিবিরে বিভিন্ন বিতর্কের সঙ্গে নানান প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ববর্তী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ম অনুযায়ী এতদিন লিখিত পরীক্ষায় যারা পাস করতেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র যাচাই করে তারপর ইন্টারভিউ নেওয়া হতো এবং তার ভিত্তিতে তৈরি হতো মেধা তালিকা।

মেধা তালিকার ওপর ভিত্তি করেই কাউন্সিলিং হতো এবং সেখানে পছন্দের স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই পুরো পদ্ধতিটি ছিল বেশ সময় সাপেক্ষ। এক বছরেরও বেশী সময় লাগতো এই পদ্ধতিটি সমাপ্তি হতে। চলে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো শিক্ষা দপ্তরের। এছাড়া উচ্চ প্রাথমিক, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষকতার জন্য আলাদা আলাদা পরীক্ষা দিতে হত। তা নিয়েও অনেক সমস্যা তৈরি হতো। এসকল সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তন আনছে। এই নতুন নিয়মে আলাদা আলাদা ভাবে আর তিনটি স্তরের জন্য পরীক্ষা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী যদি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে তাহলে সব স্তরের জন্য একটি পরীক্ষা দিলেই হবে। তবে লিখিত পরীক্ষা হবে দুটি ধাপে।

নতুন নিয়মে সব চাকরিপ্রার্থীর উত্তরপত্রই তিন বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে এসএসসি। তবে এই নতুন নিয়মের ভিত্তিতে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে ‘কেন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে নাম্বার বিবেচনা করে মেরিট লিস্ট তৈরি করা হবে না?’ কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস এ বিষয়ে বলেন, ‘‘লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে প্যানেল প্রকাশ করা খুবই উত্তম উদ্যোগ। তবে সব প্রার্থী যাতে সকলের নম্বর দেখতে পান, তার ব্যবস্থা রাখা উচিত। তা হলেই স্বচ্ছতা আসবে এবং প্রার্থীদের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষ কমবে এবং সেই সঙ্গে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ডিগ্রির নম্বরও যোগ করা দরকার।’’ শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সভাপতি কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘‘শুধু ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা তুলে দিলেই স্বচ্ছতা আসবে না। তা ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর তুলে দেওয়া হচ্ছে কেন? লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হোক অনলাইনে। তা হলে লিখিত পরীক্ষার মধ্যেও আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে।’’

Web Desk

We belong to that group who are addicted to journalism. Behind us, there is no big business organization to support us. Our pens do not flow under any other’s commands.

Related Articles