নিউজরাজ্য

আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ, ব‍্যাপক চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে

আর্থিক তছরুপের মামলায় এবার গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ কে ডি সিং। বুধবার দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অ্যালকেমিস্ট গ্রুপের কর্ণধারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

ইডি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যসভার এই প্রাক্তন সাংসদকে মঙ্গলবার ডাকা হয়। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তাঁর থেকে বিভিন্ন নথিও চাওয়া হয়। পরে তাঁকে বুধবার আরও এক দফায় ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ প্রয়োজনীয় নথি পেশ করতে বিফল হন বলে সূত্রের খবর। তারপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি‌ই আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়ে যায় লগ্নিসংস্থা অ্যালকেমিস্টের নাম‌ও। তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বেআইনিভাবে বাজার থেকে কয়েকশো কোটি তোলা আদায় করেছিল অ্যালকেমিস্ট। পরিমাণে তা প্রায় ১৯১৬ কোটি টাকা হবে বলে একটি সূত্র দাবি জানিয়েছে, যা নাকি পরবর্তীতে বিদেশেও পাচার করা হয়।

বিধানসভা ভোটের মাসকয়েক আগেই তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদের গ্রেফতার হ‌ওয়ার এহেন ঘটনায় যথারীতি রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন কে ডি। কিন্তু ২০১৬ সালে নারদা কাণ্ডের পর তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় দাবি করেছেন, কে ডি-র সঙ্গে দীর্ঘদিন কোন‌ওরকম সম্পর্ক ছিল না তৃণমূলের। তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। ওঁর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। তিনি এখন সাংসদও নন। নিশ্চয়ই দোষ করেছেন, তাই গ্রেফতার করা হয়েছে।’ আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আবার দাবি করেন, ২০১৩ সালেই তিনি কে ডি-র বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল নেতা মুকুল রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল বুঝিয়ে তাঁকে দলে নিয়েছিলেন। তাই সেই ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে মুকুলকেও গ্রেফতার করা উচিত।

বিজেপির পালটা দাবি, এখন সম্পর্ক না থাকলেও যখন কে ডি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তখন তো তাঁর সঙ্গে সবুজ শিবিরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। একইসঙ্গে বহিরাগত ইস্যু তুলেও খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূল তো অমিত শাহ, জে পি নাড্ডাদের বহিরাগত বলে, কিন্তু এদিকে কে ডি-কেও তো বাইরে থেকে এনে সাংসদ করা হয়েছিল! একইসঙ্গে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই বিষয়ে মুখ খুলতে দাবি করেন তাঁরা‌। তবে বাম এবং কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য, এই তরজার পুরোটাই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে ‘গট-আপ’। বাম শিবিরের এক নেতার বক্তব্য, কে ডি-কে তো এখন না হয় গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে কয়েকদিন পর বিজেপিতে যোগ দিতে দেখলেও তিনি অবাক হবেন না!