আগেকার দিনে পায়ারাকে দিয়ে চিঠি পাঠানো হতো কেন? এর পিছনের রহস্য শুনলে চমকে যাবেন

বলিউডের চলচ্চিত্রই হোক কিংবা প্রাচীন উপন্যাস গল্পকথা-পায়রাকে বার্তাবাহক হিসাবে ব্যবহারের উল্লেখ চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। তবে শুধুমাত্র গল্পকথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই বাস্তবিকতা প্রকৃতপক্ষেই ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি একটি উত্তম বার্তা প্রেরণকারী কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন ঠিক কি কারনে এত পাখি ছেড়ে কেবলমাত্র পায়রাকে বার্তাপ্রেরক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মানুষেরা? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

বর্তমান যুগে পায়রার জায়গায় এসেছে স্মার্টফোন এবং মেসেজ এসেছে চিঠির জায়গায়। তবে বার্তাবাহক হিসেবে পায়রাকে বেছে নেওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ হল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে পায়রা কখনোই রাস্তা ভুলে যায় না। পায়রার শরীরের মধ্যে থাকা একটি বিশেষ ব্যবস্থার সাহায্যে পায়রা জিপিএস এর মত প্রত্যেকটি স্থান তার ব্রেনে স্টোর করে রাখে এছাড়াও পায়রা ম্যাগরাটোরসেপশন নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে নতুন রাস্তার খোঁজার চেষ্টা করে।

পায়রার শরীরে রয়েছে 53 ধরনের বিশেষ কোষ যা পায়রাকে পথনির্দেশ সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও পায়রা চোখের রেটিনায় থাকা বিশেষ প্রোটিনের কারণে পায়রা কখনোই তাদের চেনা রাস্তা ভুলে যায় না কিংবা পথ হারিয়ে ফেলে না আর এই সমস্ত কারণেই পায়রাকে প্রাচীনকাল থেকেই বিশেষ বার্তাবাহক হিসেবে বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

তবে সেই সব বহুযুগ আগের কথা বর্তমানে এসেছে ইমেইল,হোয়াটসঅ্যাপ,মেসেঞ্জার ইত্যাদি নানান অনলাইন বার্তাপ্রেরক যার মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই এক ক্লিকে নিজের থেকে প্রায় লক্ষাধিক কিলোমিটার দূরে থাকা মানুষকে একমুহূর্তেই বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হচ্ছে। তবে শ্বেতশুভ্র পায়রার ঠোটে করে চিঠি নিয়ে যাওয়ার এই প্রথা আজও বিনোদনে গল্পকথায় এবং উপন্যাসে রয়ে গিয়েছে অবিনশ্বর হয়ে!