অফবিট

জানেন কি ডাকাতির আগে কেন মা কালির পুজো করা হত? এর পিছনের কারণ শুনলে ‘হাঁ’ হয়ে যাবেন

গ্রামবাংলার ডাকাতেরা সাধারণত ছিলেন ডাকাতকালীর ভক্ত

বর্তমানে দিওয়ালির আনন্দে মেতে উঠেছে সারাদেশ! বছরে এই দুই দিনব্যাপী সময়জুড়ে আপামর জনগণ মেতে ওঠেন সপরিবারে খুশিতে। তবে বাংলায় দিওয়ালি মানেই কালীপূজা। আর কালীপূজার সাথে জড়িয়ে আছে ডাকাতদের ইতিহাস। জানেন বর্তমানে ডাকাতদের আর সেরকম দেখা না গেলেও আজও গ্রামবাংলায় নানান স্থানে তারা দলবল নিয়ে হানা দেয়। তবে আপনারা কি জানেন এই ডাকাতেরা ডাকাতি করতে বেরোনোর আগে মা কালীর চরণে নিজেদের সপে দিতেন কিন্তু কেন?

গ্রামবাংলার ডাকাতেরা সাধারণতঃ ছিলেন ডাকাতকালীর ভক্ত। যেকোনো ডাকাতির উদ্দেশ্যে বেরোনোর আগে তারা মায়ের পূজা করতেন। রঘু ডাকাত, বিশে ডাকাত প্রমূখ প্রখ্যাত ডাকাতেরা বরাবর সর্বমঙ্গলা কালী এবং বুনো মা কালী প্রভৃতির চরণে বরাবর নিজেদেরকে অর্পণ করেছেন কিন্তু হিংসাত্মক পরায়ন এই সকল ডাকাতদের আধ্যাত্মিকতা নিয়ে এখনও রয়েছে প্রশ্ন।

সাধারণত মানুষের জীবনে বিনাশের আগমনকারী এইসকল ডাকাতেরা ঠিক কি কারণে কালীপুজো করতেন তা আজও অজানা থেকে গেলেও মনে করা হয় তাদের মধ্যে বিবেক দংশন কাজ করত আর সেই কারণেই তারা অনাসৃষ্টি কান্ড ঘটানোর পূর্বে নিজেদের সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলতে মা কালীর বন্দনা করতেন। এককথায় নিজের বিবেক বুদ্ধি ও নৈতিকতার খাতিরে ডাকাতেরা বারংবার মা কালীর শরণাপন্ন হয়েছেন।

কপালে তিলক, কানের মাকড়ি এবং হাতে অস্ত্র নিয়ে নিজেদেরকে যতই ভয়ঙ্কর রণসজ্জায় সাজিয়ে তুলুক না কেন ডাকাতেরা আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতই নিজেদের পাপিষ্ঠতার প্রতি ছিলেন যথেষ্ট সচেতন। মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করা, তাদের প্রাণ নেওয়া এইগুলি পাপ কাজ তা তারা বরাবরই জানতেন হৃদয়ে আর সেই কারণেই মায়ের শরণাপন্ন হয়ে তারা নিজেদের সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলতে চাইতেন। বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ডাকাত রঘু ডাকাতের ওপর পরবর্তীতে দেব একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন যেখানে জানা যায় যে খগেন চ্যাটার্জি রোড চিত্তেশ্বরী সর্বমঙ্গলা কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রঘু ডাকাত নিজেই!

Related Articles