Durga Puja: জানেন বাংলায় কবে দুর্গাপূজা শুরু হয়? এই ইতিহাস কি?

অকালবোধনে দেবী দুর্গার পূজা শুরু হয়েছিল

ইতিমধ্যেই সারাবাংলা সেজে উঠেছে মেয়েকে বাপের বাড়ি বরণ করে নেওয়ার জন্য। হয়ে গিয়েছে উমার বোধন! আর মাত্র কটা দিন,তারপরেই শুরু চারটে দিনের আনন্দ-হাসি আর মজা-ঠাট্টা। বাংলার এই ঐতিহ্যশালী মিলনোৎসব সারা বাঙালিকে একত্রিত করে তোলে কয়েকটা দিনের জন্য। তবে আপনারা কি জানেন এই দুর্গাপূজার সূচনা ঠিক কবে ঘটেছিল? না জানলে জেনে নিন আমাদের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

আজকালকার দিনে যতই চারিদিকে থিম পূজার রমরমা হোক না কেন আদতে দুর্গাপূজার আদিরূপ ছিল ভিন্ন। যার পেছনে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক লোকগাথা। পুরাণ অনুযায়ী জানা যায়,বসন্তকাল হলো দেবীর আরাধনার সময়। তবে রাবণকে বধ করতে রামচন্দ্র যে দুর্গাকে পূজা করেছিলেন তার ছিল দশটি হাত এবং তিনি মহিষাসুরমর্দিনী তাই অকালবোধনে দেবী দুর্গার পূজা শুরু হয়েছিল।

এতো গেল পৌরাণিক লোকগাথা! তবে মনে করা হয় বাংলাদেশের ধনী বাড়ি গুলিতে 1500সাল থেকে দেবীদুর্গার পূজার প্রচলন ছিল। মোগল আমলে চলত দুর্গার আরাধনা। তবে বাংলায় সর্বপ্রথম দিনাজপুর মালদার জমিদার বাড়িতে সবুজ সিংহবাহিনী এবং সাদা বাঘ বাহিনীর দূর্গা পূজা শুরু হয়েছিল। এই দেবী দুর্গার চোখ ছিল গোলাকার আবার লোকমতে বলা হয়ে থাকে তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ন কিংবা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদারের হাত ধরেই বাংলায় শুরু হয়েছিল দুর্গাপূজা।

অন্যদিকে শহর কলকাতায় সর্বপ্রথম কাশিমবাজারের রাজা হরিনাথের হাত ধরে শুরু হয়েছিল দুর্গাপূজা। তবে বারোয়ারি পূজার নেপথ্যে রয়েছে আরও এক ইতিহাস। জানা যায় 1790 সালে 12জন বন্ধু মিলে প্রথম গুপ্তিপাড়ায় বারোয়ারী দূর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন।

এছাড়াও ব্রিটিশ আমলে নবকৃষ্ণ দেব এর বাড়িতে কলকাতা শহরে যে দূর্গা পূজার আয়োজন করা হতো তার খরচ হিসেব করলে তা এক গ্র্যান্ড ফিস্ট এর রূপ নেয়। তবে বাগবাজারে সনাতন ধর্মতসাহিনির হাত ধরে 1910 সালে প্রথম সূত্রপাত ঘটেছিল আনুষ্ঠানিক দুর্গাপূজার। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এই পূজার জন্য সাহায্য করলেও পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে সারা কলকাতাজুড়ে এবং বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দুর্গাপূজার প্রচলন।