নিউজরাজ্য

অবিশ্বাস্য! এবার বাজ থেকে বাঁচাবে ছাতা, চমকপ্রদ আবিষ্কারে তাক লাগাল বাংলার ষষ্ঠ শ্রেণীর এই ছাত্র

বর্তমানে বেড়েছে আবহাওয়ার খামখেয়ালীপনা। মাঝেমধ্যেই বজ্রপাতের ফলে মৃত্যুর খবর শুনতে পাই আমরা। তবে এবার বাজ থেকে বাঁচাবে ছাতা! হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। বাজ নিরোধক করতে পারবে এমনই এক ছাতার মডেল বানিয়ে জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত হতে চলেছে ভগবানপুর দুই নম্বর ব্লকের এক ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর ২ নম্বর ব্লকের বাহাদুর দেশপ্রাণ শিক্ষা নিকেতন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র শ্রেয়ক পণ্ডাকে তার এই আবিষ্কারের জন্য ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিশু বিজ্ঞান কংগ্রেসের পক্ষ থেকে করা হবে পুরস্কৃত।

করোনা আবহে গত দু’বছর ধরে বন্ধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির। বাড়ি থেকেই চলছে পঠন-পাঠন। বাড়ি থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় ‘চিল্ড্রেন সায়েন্স কংগ্রেস, ২০২০-২১-এ যোগ দিয়েছিল শ্রেয়ক। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশন্যাল কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র সহযোগিতায় এবং রাজ্য ‘সায়েন্স কমিউনিকেটর ফোরাম’ ভার্চুয়াল মাধ্যমে কত ২০ জানুয়ারি আয়োজন করেছিল প্রতিযোগিতার। আর সেখানেই এই বজ্র নিরোধক ছাতার মডেল তৈরি করেছে সে। যার নাম রেখেছে ‘থান্ডারস্টিক ফর ফারমার্স’।

মূলত যে সমস্ত কৃষকরা ঝড় বৃষ্টি বজ্রবিদ্যুৎ এর মধ্যে মাঠে জমিতে নেমে কাজ করতে থাকে তাদের জন্যই এই মডেলটি তৈরি করেছে ছোট্ট শ্রেয়ক। শ্রেয়কের বানানো ফোল্ডিং এই স্টিক বর্ষাকালে চাষীরা মাঠে (Farmers in Bengal) নিয়ে যেতে পারবেন। আকাশে মেঘ বা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে কৃষকরা যেখানে কাজ করবেন, সেখান থেকে অন্তত ২০ ফুট দূরে জমির উপর এই স্টিকটি ছাতার মতাে পুঁতে দাঁড় করিয়ে দিতে হবে। বজ্রপাতের উচ্চ বিভব যুক্ত বিদ্যুৎ খোলা মাঠে মানুষের থেকে বেশি উচ্চতায় থাকার তীক্ষ্ণ প্রান্ত যুক্ত স্টিকে গিয়ে পড়বে। এবং তা মাটিতে মিশে যাবে। যার ফলে কৃষকদের জীবন বেঁচে যাবে।

জানা গিয়েছে, ছাতা, ৪ এম এম তামার তার, পিভিসি পাইপ, ৪ এম এম রড দিয়ে আর্থিংযুক্ত ১০ ফুট উচ্চতার এই মডেলটি তৈরি করেছে শ্রেয়ক। রাজ্যস্তরেও শ্রেয়কের এই মডেল সাফল্য পেয়েছে। তাকে এই স্টিক বানানোর কাজে সাহায্য করেছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিতাইচরণ পাত্র। শ্রেয়ক যে স্কুলে পড়ে, সেখানেই ইংরেজির শিক্ষক তার বাবা অসীমকুমার পন্ডা। ছেলের এই আবিষ্কারের যথেষ্ট খুশি তিনি।শ্রেয়কের এই আবিষ্কার বজ্রপাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে তার স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা।

Tags

Related Articles

Close