দেশনিউজ

ছেলের পরীক্ষার জন্য ১০৫ কিমি পথ সাইকেল চালিয়ে নজির গড়ল নিরক্ষর বাবা

করোনা আতঙ্কের জেরে বেশ কিছু জায়গায় গণপরিবহন চালু হলেও অনেক জায়গাতেই এখনো চলছে না গণপরিবহন। গণপরিবহন না চলায় চরম সমস্যায় পড়ছে সাধারণ মানুষ। অনেকেই বেছে নিচ্ছে বাইক অথবা গাড়িকে। কিন্তু যাদের বাইক গাড়ি নেই তারা কি করবে? যদিও তারা যাতায়াতের জন্য বেছে নিচ্ছে সাইকেলকে। কিন্তু সাইকেল কি আর বাইক বা গাড়ির মতো বেশি পথ ছুটতে পারে! যদি উত্তর না হয় তবে তা একদম ভুল। কারণ, সম্প্রতি এক বাবা ছেলেকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যেতে ১০৫ কিমি সাইকেল নিয়ে পাড়ি দিল।

অবাক হচ্ছেন সাইকেল তাও আবার ১০৫ কিমি এও আবার হয় নাকি। হয়, কারণ এক বাবার কাছে তার সন্তানের প্রয়োজনটা কষ্টের চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন প্রশ্ন এই কঠিন পরিস্থিতিতে কিসের পরীক্ষা। সেটা হল মধ্যপ্রদেশ সরকার সম্প্রতি ‘রুক যানা নেহি’ অভিযান শুরু করেছে। এতে পরীক্ষায় ফেল হওয়া ছাত্ররা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়নি তাঁদের জন্য এই পরীক্ষা শুরু করেছে সরকার। আর সেই পরীক্ষাই দিচ্ছে বৈদ্যপুরার বাসিন্দা শোভারামের ছেলে আশীষ। দশম শ্রেণির পরীক্ষা দূরে একটি কেন্দ্রে পড়ায় সে নিজের ছেলেকে সাইকেলে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়।

বিন্দুমাত্র নিজের কথা না ভেবে শুধুমাত্র ছেলেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ১০৫ কিমি রাস্তা সাইকেলে করে যায় পিতা- পুত্র। শুধু তাই নয় সাইকেল করে খাবার ও পানীয় নিয়ে বেরিয়ে ছিল তারা। একরাত্রি রাস্তায় কাটানোর পর পর দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছায় বাবা ও তার ছেলে। করোনা কবলিত পরিস্থিতিতে গণপরিবহন না চলায় সাইকেল করেই এতটা পাড়ি দিতে হয়েছে দরিদ্র শোভারাম ও তার ছেলেকে।

বাবা ও ছেলের এই কাহিনী অনেকের চোখেই জল এনেছে। বাবা হয়ে সন্তানের জন্য কি কি করতে পারে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শোভারাম। নিজের বয়স নিজের শরীরের কথা উপেক্ষা করেই ছেলেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘপথ সাইকেল নিয়ে পাড়ি দিয়েছে ওই ব্যক্তি। এই ঘটনার কথা প্রশাসন জানতে পেরে পিতা পুত্রের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ২৪ তারিখ অবধি পরীক্ষা থাকায়, এই কদিন তাঁদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

Tags

Related Articles

Close