আন্তর্জাতিকনিউজ

মেয়ে’রা বেশ্যা, এটাই বাংলাদেশের সংজ্ঞা! তসলিমার বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

তিনি বারবারই পুরুষশাসিত সমাজের বিরোধিতা করে এসেছেন।চিরাচরিত সামাজিক রীতির বিরুদ্ধে বরাবরই সরব হতে দেখা গিয়েছে তসলিমা নাসরিনকে। আর এবার বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) নিজের ফেসবুকে লেখিকা তসলিমা নাসরিন পোস্ট করেছেন একটি পোষ্ট, পোস্টটিতে লেখা, ‘সুশীল সমাজ’ মূলত পুরুষ ও অর্থবান ধনী পুরুষদের ক্ষমতায়নকেই কায়েম করে চলেছে বলেও মন্তব্য করলেন লেখিকা(Taslima Nasrin)।

মাদককাণ্ডে বাংলাদেশের অভিনেত্রী পরী মনি এবং আরো দুই বাংলাদেশী মডেল গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, আর তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলেন লেখিকা তাসলিমা নাসরিন। বুধবার রাতে একের পর এক পোস্ট ভেসে উঠল তসলিমার ফেসবুক পেজে। তাসলিমা মূল আক্রমণ করেছে সরাসরি বাংলাদেশের পুরুষ শাসিত সামাজিক পরিকাঠামোকে। তাসলিমা কটাক্ষ করে লিখেছেন, সমাজ পুরুষশাসিত। আর তাই সেই সকল নিয়ম এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে যাবতীয় সামাজিক নিয়ম একাধিক ধর্ম থাকলেও সব সময় সর্ব প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে পুরুষদের। সেই পথে হেঁটে ক্রমশ অবক্ষয়ের দিকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।

তাঁর পোস্টে তসলিমা দাবি করেন, বাংলাদেশে প্রগতিশীল মেয়েদের ‘বেশ্যা’ বলে গণ্য করা হয়। এটাই নাকি বাংলাদেশের সংজ্ঞা। নিজের এই বক্তব্যের ভিত্তিতে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে তসলিমা লিখেছেন, “বাংলাদেশের সংজ্ঞা। পুরুষেরা লোভ করলে?–অ্যামবিশাস। মেয়েরা লোভ করলে?–বেশ্যা। পুরুষেরা মদ খেলে?–স্মার্ট। মেয়েরা মদ খেলে?–বেশ্যা। পুরুষেরা নাচলে?–কালচার্ড। মেয়েরা নাচলে?–বেশ্যা। পুরুষেরা ক্লাবে গেলে?—রিচ। মেয়েরা ক্লাবে গেলে?–বেশ্যা।”

তাসলিমা বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে এই পোস্টটি করেন। এদিন দুপুরেই তাসলিমার একটি লেখা নজর কাড়ে। যেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের সুশীল সমাজ প্রায়ই এক একটি মেয়ের বিরুদ্ধে উন্মাদ হয়ে ওঠে। মেয়েগুলো সাধারণত ধনী এবং দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শিকার। চতুর ব্যবসায়ীরা এই মেয়েদের ব্যবহার করে তাদের অবৈধ ব্যবসার কাজে, এই মেয়েদের হোটেলের বারে গিয়ে মদ খেতে শেখায়, ক্লাবে গিয়ে নাচতে শেখায়।

এই মেয়েদের তারা তাদের হাতের পুতুল বানায়। এদের এক্সপ্লয়েট করাটা তাদের জন্য সহজ। কারণ মেয়েগুলো নিতান্তই নিরীহ। হয়তো গরিব পরিবারের মেয়ে, শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব একটা নেই, হয়তো হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছে, ডিভোর্সি, পায়ের তলায় মাটি চাইছে। শিকারী পুরুষগুলোর পাতা ফাঁদে পড়ে যায় এরা, অথবা পড়তে এদের বাধ্য করা হয়। সুশীল সমাজ ধনী পুরুষদের বড় সমীহ করে চলে। বদনাম করার জন্য বেছে নেয় ওই নিরীহ মেয়েদের।”

Tags

Related Articles

Close