নিউজরাজ্য

‘আল্লা ও ভগবানের মধ্যে কোনও তফাত নেই’, ২৬ বছর ধরে পুজোর জোগাড়ে মকবুল হোসেন

এই মানুষটি ২৬ বছর ধরে এই পুজোর জোগাড়ের কাজে যুক্ত রয়েছেন।

একটা পুজোর কাজ করবার সময় হাতেহাতে এগিয়ে দেবার জন্য লোকের প্রয়োজন হয়। এই ফল কেটে দেওয়া, ঘট সাজিয়ে দেওয়া, বলির চালকুমড়োটা এগিয়ে দেবার জন্য লোক লাগে। ঠিক সেরমভাবেই ময়নাগুড়ি ফুটবল ময়দানের সর্বজনীন দুর্গাপুজোতেও এক বিশেষ মানুষের সহজ লাগে। যাকে ছাড়া ওই এলাকার পুজো হবে, এটা ভাবাই যায় না। আর সেই ব্যক্তিটি হলেন মকবুল হোসেন।

অবাক লাগছে নিশ্চয়ই। তবে অবাক হবেন না, এই মানুষটি ২৬ বছর ধরে এই পুজোর জোগাড়ের কাজে যুক্ত রয়েছেন। তিনিও এই পুজোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি এই কাজ করে আনন্দ পান। তাঁর বয়স যখন ১৮-১৯ হবে, তখন নিজে থেকেই এই পুজো মন্ডপে কাজ করবে বলে এগিয়ে আসে মকবুল। প্রথমে তিনি পুজো মণ্ডপের সাফাইয়ের কাজে এগিয়ে এসেছিলেন বলে জানিয়েছে পুজো উদ্যোক্তারা। আর তারপর থেকে প্রতিবছর পুজো শুরুর আগেই টেকাটুলি থেকে চলে আসেন পুজোর জোগাড়ে হাত লাগানোর জন্য।

গতবছর মা দুর্গার কাছে একটি মানতও করেছিল মকবুল। যেই মানত পূর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মায়ের আশীর্বাদেই গরুর বাচ্চা হয়েছে। তাই এই বছর মহাষ্টমীতে গরুর দুধ পুজোয় দিয়েছি।’’ ওই পুজো মণ্ডপের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন যে ১২৯ বছরের এই পুজো। প্রতিবছর পুজোর আগেই মকবুল চলে আসেন। আর এসে মণ্ডপ চত্বর সাফাই থেকে শুরু করে পুজোর উপকরণ সংগ্রহ সবকিছুতেই হাত লাগান।

এমনকি এই পুজোতে চালকুমড়ো বলি হয়। নিজের বাড়ির গাছের চালকুমড়ো আনেন মকবুল। তাঁর কাছে আল্লা ও ভগবানের মধ্যে কোনও তফাত নেই। যতদিন বেঁচে থাকবে এই পুজোয় তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

Tags

Related Articles

Close