আন্তর্জাতিকনিউজ

করোনার থেকেও বেশি ছোঁয়াচে ভাইরাসের হানা বিশ্বে, মানুষের পাশাপাশি পশুদের মধ্যেও ছড়াচ্ছে এই ‘ব্ল্যাক ডেথ’

বিউবোনিক প্লেগের জেরে ইউরোপে ২০ মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

Advertisement

করোনার থেকেও ভয়ঙ্কর মহামারী দেখেছিল বিশ্ব। যা ইতিহাসের পাতায় ব্ল্যাক ডেথ নামে পরিচিত। এই ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম হল বিউবোনিক প্লেগ। ১৪ শতকে এই মহামারীর জেরে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল এশিয়া ও ইউরোপ। তবে এবার আবার সেই রোগ নতুন করে শুরু হচ্ছে। এই রোগের ইতিহাস শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন কতটা ভয়ঙ্কর ছিল এই রোগের দাপট। আসুন জেনে নিই এই রোগের ইতিহাস সম্পর্কে।

মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য যাতায়াতের মাধ্যমেই এই রোগ ছড়িয়েছে। ১৩৪৭ সালের অক্টোবর মাসে মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দরে নোঙর করেছিল ১২টি জাহাজ। আর সেই সময় হঠাৎই জাহাজে থাকা বেশিরভাগ নাবিকের মৃত্যু হয়। আর যাঁরা বেঁচেছিলেন, তাঁদের শরীরে রক্ত ও পুঁজ বেরোতে থাকা কালো কালো ফোঁড়া দেখা যায়। যতদিন এগোচ্ছিল তাঁরা ততই গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। এরপরে জানা গেছিল, বিউবোনিক প্লেগ নামে এক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা।

এরপরেই সিসিলিয়ান বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই জাহাজগুলিকে বন্দরের বাইরে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁরা অনেক সময় নিয়ে ফেলেছিলেন। আর যার ফলে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। ইউরোপ থেকে ধীরে ধীর চিন, ভারত, সিরিয়া ও ইজিপ্টেও ছড়াতে শুরু করে এই রোগ। এই রোগের সূত্রপাত সম্পর্কে হিস্ট্রি ডট কম জানিয়েছিল, আজ থেকে ২০০০ বছর আগেও এশিয়ায় অস্তিত্ব ছিল এই বিউবোনিক প্লেগের।

আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামে এক ব্যাকটেরিয়া থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ব্যাকটেরিয়া ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী বা কীটপতঙ্গের গায়ে দেখা যায়। আর এই ছোট ছোট প্রাণীগুলি শুঁড়ের মাধ্যমে কুকুর, বিড়াল, ইঁদুরসহ নানা উষ্ণ রক্তের প্রাণী, এমনকি মানুষের রক্ত চুষে জীবনধারণ করে। আর এর ফলে এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই মারণ রোগ। আর ঠিক এভাবেই মানুষের মধ্যেও ছড়িয়েছে এই মারণ রোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটাও জানিয়েছে, রক্ত চুষতে গিয়ে কামড়ের মাধ্যমেই প্লেগ ব্যাসিলাস ওয়াই পেস্টিস শরীরে প্রবেশ করে। আর তারপর ধীরে ধীরে দেহের লসিকার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এই ব্যাকটেরিয়া। এই সংক্রমণের ফলে লসিকাগুলি ফুলে যায় ও ব্যথা হতে শুরু করে। এই লসিকাগুলিকে বিউবো বলা হয়। ধীরে ধীরে এগুলি আরও বড় আকার ধারণ করে। তবে চিকিৎসকরা এটাও জানিয়েছেন যে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ নিরাময় সম্ভব। প্রসঙ্গত, বিউবোনিক প্লেগের জেরে ইউরোপে ২০ মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সরাসরি ছড়াতে পারে না এই প্লেগ।

Tags

Related Articles

Close