নিউজরাজ্য

‘স্মার্টফোন কোথায় যে অনলাইনে ক্লাস করব’, পড়াশুনা ছেড়ে হাটে ফল বেচছে ছোট্ট সুরজিৎ

সোনাঝুরির হাটে গেলেই দেখা যাচ্ছে একটা ছোট ছেলেকে। মুখে রুমাল বাঁধা। ছোট্ট টেবিলের উপরে শসা ও পেয়ারার দোকান নিয়ে বসেছে সে।

Advertisement

করোনা এসে মানুষের যে কত ক্ষতি হয়েছে তা আর বলতে বাকি নেই। সবথেকে ক্ষতি হয়েছে গরিব মানুষের। কাজ হারানোর পাশাপাশি সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন মানুষগুলো। আবার কোথাও সংসার চালানোর জন্য ছোটো ছেলেমেয়েদের কাজে লাগিয়ে দিয়েছে বাবা-মা। সোনাঝুরির হাটে গেলেই দেখা যাচ্ছে একটা ছোট ছেলেকে। মুখে রুমাল বাঁধা। ছোট্ট টেবিলের উপরে শসা ও পেয়ারার দোকান নিয়ে বসেছে সে। অপটু হাতেই সংসারের কিছু সুবিধার জন্য পেয়ারা-শসা মাখা বিক্রি করছে সে।

এই ফল বিক্রি করার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে, “সারা দিনে যা বিক্রি হয়, তাতে সংসারে অল্প হলেও সুবিধা হচ্ছে।’’ আর পড়াশুনা করছে কিনা সে কথা জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে, ‘‘স্মার্টফোন কোথায় যে অনলাইনে ক্লাস করব?’’ সে বোলপুরের গোয়ালপাড়া তনয়েন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। নাম সুরজিৎ বাগদি। আপাতত তাঁর প্রতিদিনের রুটিনে বিস্তর পরিবর্তন ঘটেছে। আগে সে স্কুলে যেতে পারত। এখন আর সেসব নেই। পড়াশুনাও হয় না।

এখন সে প্রতিদিন কালে ১১টা নাগাদ মায়ের সঙ্গে সোনাঝুরির হাটে আসে। কাঁধে করে টেবিল নিয়ে গিয়ে মা পেতে দেন। বিকেল সাড়ে ৪টে-৫টা পর্যন্ত ওখানেই থেকে যা উপার্জন হয়, বাড়ি ফিরে সেটাই মায়ের হাতে তুলে দেয় ছোট্ট ছেলেটি। এই বয়সেই এত পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁকে। গত ২ মাস ধরে সে এই কাজ করেছে। প্রথম দিকে শান্তিনিকেতন থেকে সোনাঝুরি হাট যাওয়ার রাস্তার ধারে টেবিল পেতে বসত সুরজিৎ।

আর এখন হাট খোলায় হাটেই বসছে। কোনও দিন ২০০, কোনও দিন ৩০০ টাকার বিক্রিও হচ্ছে। পর্যটক সংখ্যা কম হলেও বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। সুরজিতের বাবা কংস বাগদি পেশায় রাজমিস্ত্রি। আর মা রেখা গৃহ-পরিচারিকা। সুরজিতের বাবা জানিয়েছেন যে ছেলেকে স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর নেই। তাই স্কুলই একমাত্র ভরসা। স্কুলই যখন বন্ধ, তাই ক্লাস করতে পারছে না ছেলে।

Tags

Related Articles

Close