নিউজলাইফস্টাইল

করোনার টিকা তৈরির কাজ শেষের দিকে! কবে মিলবে বাজারে জানালো ভ্যাক্সিকন ২০২০

সঙ্গীতা বাগ : সমস্ত বিশ্ব আতঙ্কিত নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে। WHO এই ভাইরাসের নামকরণ করেছে SARS COV2 এবং এই ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে COVID 19। এখনো পর্যন্ত বিশ্বের সত্তরটিরও বেশি দেশে এই ভাইরাস ও তার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন দেশে এখন প্রায় নব্বই হাজার মানুষ সংক্রামিত। প্রায় তিন হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটছে। সূত্রের খবর দিন দিন ক্রমাগত প্রকোপ বাড়ছে এই ভাইরাসের। ভারতেও ইতিমধ্যে থাবা বসিয়েছে। ভারতে করোনা ভাইরাস নিয়ে সর্বক্ষণই সতর্কতা জারি হচ্ছে। কলকাতাতে অনুষ্ঠিত হল দুদিন ব্যাপী একটি স্বাস্থ্য সচেতন সেমিনার, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষত শিশু বিশেষজ্ঞ। সেমিনারের নাম ভ্যাক্সিকন ২০২০ (Vaccicon 2020)। সেমিনারটির আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস, কোলফিল্ড ব্রাঞ্চ, সেন্ট্রাল আক্যাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস, ইন্ডিয়ান চেস্ট সোসাইটি এবং সাউথ এশিয়ান পেডিয়াট্রিকস অ্যাসোসিয়েশন।
ভারতের সমস্ত রাজ্য (মণিপুর বাদে) এবং সাতটি সার্কের প্রায় ৫০০ জন শিশু বিশেষজ্ঞ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সেমিনারটিকে সার্বিকভাবে সাফল্যমন্ডিত করেছেন। মূলত বাচ্চাদের টিকাকরণ ও তাদের সুস্বাস্থ্য এই সভার মূল আলোচ্য বিষয় হলেও অনেকাংশে চলে এসেছে করোনা ভাইরাস, তার সংক্রমণ এবং প্রতিরোধের উপায়ের বিবিধ আলোচনা।
প্রায় প্রতিটি চিকিৎসকের মতামতকে যদি আমরা সারাংশে রূপান্তরিত করি, তবে এটাই যে ভারতে করোনা ভাইরাসকে নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং পরিসংখ্যান রিপোর্ট অনুযায়ী এর থেকে প্রতিদিন দুর্ঘটনা বা ডেঙ্গুতে ভারতে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। চীনের পরিসংখ্যা চর্চা করলেও দেখা যাবে, ৮১% মানুষের দেহে সামান্য সংক্রমণ দেখা গিয়েছে, চিকিৎসালয়ে ভর্তি করতে হয়েছে ১৪% এবং মাত্র ৫% মানুষের ক্ষেত্রে এটি সত্যিই দুশ্চিন্তার উদ্রেক করে। সেক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন বা ক্রিটিকাল কেয়ারের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগে মৃত মানুষ বার্ধক্যে পৌঁছেছে।

করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসাবে বলা হয়েছে জনসমাগম, সংস্পর্শ। এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে মূলত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তাই সতর্কতা সকলেরই অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে অনেকেই মনে করছেন, যেহেতু এই ভাইরাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রায় বাঁচে না, তাই বসন্তের এই মৃদুমন্দ মনোরম আবহাওয়া কেটে গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হলেই ভারতে করোনা ভাইরাস আর তার বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না। চিকিৎসকরা সেই সম্ভাবনায় বসে নেই কেউই। তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তার ফল হল, ইতিমধ্যেই আমেরিকাতে আবিষ্কৃত হওয়ার শেষের পথে করোনা ভাইরাসের টিকা। তবে সেটির শেষ হওয়া, পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সেটির প্রমাণ এবং সেটি বাজারে সহজলভ্য হতে আরো বেশ কিছুটা সময় লাগবে, এমনই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। আপাতত সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দিতে বলা হচ্ছে সকলকে। চারিদিকে শোনা যাচ্ছে মাস্কের ব্যবহারের কথা। তবে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার না জানলে সেটির মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রতিহত করা বেশ দুঃসাধ্য ব্যাপার। আরো উল্লেখ্য, একমাত্র বিশেষ ধরণের মাস্কই ব্যবহার করতে হবে, অন্যকিছু ব্যবহার করে সেরকম কোনো লাভ নেই। তাই বাইরে বেরোনো, দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক রাখতে আপাতত বারে বারে হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা- এই অভ্যাসগুলিই এই রোগ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম।

দেশীয় চিকিৎসা পরিকাঠামো আরো বেশি সুষ্ঠু ও জোরালো করা প্রয়োজন। সেমিনারে বারবার সেই কথাও আলোচিত হয়েছে। জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের নাইসেড একমাত্র জায়গা যেখানে করোনা ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। তবে পিজি বা এসএসকেএম এ আরো একটি পরীক্ষাগার গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেমিনারে উপস্থিত বিশিষ্ট চিকিৎসক অতনু ভদ্রের কথায়, এত বড়ো জনবিপুল দেশে চিকিৎসা পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত নয়, বাড়াতে হবে অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো যাতে রোগ নির্ণয় ও রোগ নিরাময় খুব শীঘ্রই হতে পারে। এখন যেভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখতে হচ্ছে, তখন আর সেই অসুবিধায় পড়তে হবে না কাউকেই।

Related Articles