Big Breaking- করোনার মাঝে রাজ্যে দেখা দিল পার্ভো ভাইরাস!

দেবপ্রিয়া সরকার : একটা সমস্যা মিটে না হতেই আরেক সমস্যা এসে হাজির। দু’দিনের মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু একাধিক কুকুরের। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি ২ নং ব্লকের কুমারসন্ডা, হাজিপাড়া এলাকায়। জেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসক সৌরভ কুমার জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টি বিভিন্ন ভাইরাস সংক্রমণের শ্রেষ্ঠ সময়। এই সময় পশুদের মধ্যে কুকুর বিশেষ করে নানারকম ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এর জন্য টিকাকরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
গত রবি ও সোমবার রাস্তার ধারে কুকুরকে মরে পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেখানকার এক গ্রামবাসী মহম্মদ নাজিরুদ্দিন জানান, কুকুরেরা দু’দিন ধরে ঝিমুচ্ছিলো, মুখ দিয়ে লালা পড়ছিলো। এর পরেই তারা মারা যেতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু’দিন মিলিয়ে ২০ টি পথকুকুর মারা গিয়েছে। পশু চিকিৎসকেরা জানান যতদিন না পর্যন্ত গরম পড়বে, ততদিন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে কুকুরদের। চিকিৎসকদের ভাষায় এই রোগ পার্ভো এবং ডিসটেম্পার নামে পরিচিত। পশু চিকিৎসক সৌরভ কুমার জানান, দু’বছর পর্যন্ত কুকুরদের এই রোগের জন্য একটি ইঞ্জেকশন ও তারপরে একটা বুস্টার ডোজ দিতে হয়। তবে বড় কুকুরদের ক্ষেত্রে একটি ইঞ্জেকশনেই কাজ হয়।
পশু চিকিৎসকরা জানান এই ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুরদের প্রথম উপসর্গ হবে খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া। তারপরে তারা ঝিমোবে ও লালা ক্ষরণ শুরু হবে এবং আস্তে আস্তে তারা মারা যাবে। যেসব কুকুরেরা বাড়িতে পোষ্য তাদের মালিকেরা ইঞ্জেকশন তাদের প্রাণের প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও, পথকুকুররা মারা যাচ্ছে বেঘোরে। গ্রাম সূত্রে জানা যাচ্ছে সেইসব মারা যাওয়া কুকুরদের মাটিতে না পুঁতে রেললাইনের রাস্তার ধার দিয়ে লাইন করে রেখে দেওয়া হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা জানিয়েছে এতে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেশি থাকবে। তাই ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে মারা যাওয়া কুকুরদের মাটিতে পুঁতে দেওয়াই ভালো।