বিনোদনভাইরাল ভিডিও

‘নাকা কান্না, এবার শুধু বায়োপিক বানানোই বাকি!’ Didi No1-এ কেঁদে চরম ট্রোলড ‘স্মার্টদিদি’ নন্দিনী

সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে এমন একটি জায়গা দখল করেছে যে,সে যেমন একজনকে রাতারাতি এক রাতের মধ্যে বানিয়ে দিতে পারে সেলিব্রিটি। আবার সেই মানুষটাকে নিমেশের মধ্যে নামিয়ে আনতে পারে জনপ্রিয়তার নীচে। বিচিত্র এই স্থান সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষকে প্রতিনিয়তই ভাইরাল হতে দেখা যায়। কিন্তু সময়ের অচিরে তারা হারিয়ে যান। আর এমন কিছু উদাহরণে চোখ রাখলে উঠে আসবে রানু মন্ডল, ভুবন বাদ্যকরের মত কিছু নাম। তবে এবার এই তালিকায় যোগ হয়েছে আরো একটি নাম, যিনি হলে নন্দিনী দি।বেশ কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছেন নন্দিনী দি বা স্মার্ট দিদি। যিনি অফিস পাড়ার একটি ভাতের হোটেল চালান। তার পুরো নাম মমতা গঙ্গোপাধ্যায়।

বর্তমানে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া রীতিমতো ভাইরাল। দলে দলে ফুড ব্লগাররা ভিড় জমাচ্ছেন তার হোটেলে। মাত্র ৩০ টাকা থেকে শুরু তার থালি। মাছ, মাংস বিভিন্ন ধরনের আইটেম পাওয়া যায় তার হোটেলে।সুস্বাদু খাবারের সাথে সাথে নন্দিনী দির মিষ্টি হাসি মন কেড়েছে সকলের। যা তাকে রাতারাতি করে তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বর্তমানে তিনি নেট পাড়ার ক্রাশ হিসেবে পরিণত হয়েছেন। সম্প্রতি তাকে দেখা গেল দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে। দিদি নাম্বার ওয়ান বহু মেয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইকে তুলে ধরে সকলেই সামনে। আর এই দিন নন্দিনী দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে এসে জানালেন তার লড়াইয়ের কথা। সে কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন তিনি এবং তার চোখের কোণায় অচিরেই ভেসে ওঠে জল। দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে এসে নন্দিনী জানিয়েছেন আগে তাদের অবস্থা ভালোই ছিল।

তার বাবা ব্যবসা করতেন। কিন্তু নোটবন্দীর সময় সবকিছু বদলে যায়। তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তার বাবা এই ভাতের হোটেলটি শুরু করেন। নন্দিনী নিজে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বাইরে চাকরি নিয়ে চলে যান। কিন্তু তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ফিরে আসেন কলকাতায়। কলকাতায় ফিরে এসে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাবার সাথেই কাজ শুরু করেন তাদের ভাতের হোটেলে। তিনি আরো জানিয়েছেন সকালবেলায় তার বাবা সমস্ত সবজি, মাছ বাজার করেন এবং তার মা সেগুলি কাটাকুটি করেন এবং নন্দিনী সেগুলি রান্না করেন। আগে তিনি প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের মতো রান্না করতেন। কিন্তু ভাইরাল হবার পর সেই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৭০।

এভাবে সকলের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তার চোখে জল দেখা যায়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া যে কোন বিষয়কে নিয়ে ট্রোল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই নন্দিনীকে নিয়েও উঠে এসেছে নানা কটাক্ষ। কারো মতে নন্দিনী আগে জানিয়েছিলেন তিনি হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। আবার এখন অন্যরকম কথা বলছেন। আবার কারো মতে প্রতিনিয়ত এরকম বহু মেয়ে পরিবারে পাশে দাঁড়াতে নানা স্বার্থত্যাগ করছেন, সেই গল্পগুলি কারো নজরে আসেনা। আবার একজন কটাক্ষের সুরেই বলেছেন “এবার নন্দিনীকে নিয়ে একটি বায়োপিক হয়ে যাক”। সব মিলিয়ে ভাইরাল স্মার্ট দিদি এখন বেশ চর্চায় রয়েছেন নেটপাড়ায়।