বিনোদনভাইরাল ভিডিও

‘টাপা টিনি’ গানের তালে মন-মাতানো নাচ প্রাণবন্ত ঐন্দ্রিলার, পুরনো ভিডিও শেয়ার হতেই চোখে জল নেটিজেনদের

বর্তমানে গোটা বাংলার কাছে অনুপ্রেরণার নাম ঐন্দ্রিলা শর্মা। জীবন যুদ্ধে তিনি শত লড়াইয়ের পর হার মানলেও শত শত মানুষের মনে রয়ে যাবেন চিরদিন। লড়াইটা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রথমবার বোনম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ঐন্দ্রিলা। তারপরে শুরু হয় মারণ রোগের সঙ্গে তার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের অবসান ঘটলো গত রবিবার বেলা ১২:৫৯ মিনিটে। সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। বর্তমানে সকলেই তার স্মৃতিচারণ করতে তার পুরনো কাজের নানা ছবি ও ভিডিও সামনে আসছে।

প্রথম বার মারণ রোগ জয় করে আসার পর শুরু হয় তার অভিনয় কেরিয়ার। কিন্তু কেরিয়ারের মধ্যগগনে দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে আবার মারণ রোগে আক্রান্ত হয় ঐন্দ্রিলা। আর সেই যুদ্ধের সাক্ষী হয়েছিল সারা বাংলা কারণ তখন তিনি টেলিভিশনের জগতে এক অতি পরিচিত নাম। আর তাই তার সুস্থতা কামনা করেছিল সারা দুনিয়া। আর সেই সময় নজর কেড়েছিল তার প্রেমিক সব্যসাচীও। হাসপাতালের বেডে শুয়ে ঐন্দ্রিলার স্নিগ্ধ হাসি দেখে মুগ্ধ হয়েছিল সারা বাংলা। সকলেই চিনে ছিল এক লড়াকু মেয়েকে। সকলে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন তার সাহসিকতার। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইও জয়ী হয়ে ফিরে আসেন তিনি।

ক্যান্সারকে জয় করে আবার কাজে মন দেন তিনি। মডেলিং, ফটোশ্যুট ও নানা কাজের মাধ্যমে আবার অনুরাগীদের কাছে ফিরে আসেন। গত জুন মাসে ফেসবুকে একটি নাচের ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। ভিডিওটিতে তাকে টাপা টিনি গানে নাচ করতে দেখা গিয়েছিল। তাকে নাচ করতে দেখে সকলেই বেশ আনন্দিত হয়েছিলেন। তিনি যে এত বড় রোগকে জয় করে সুস্থ আছেন এটি ভেবেই সকলে বেশ আনন্দিত হয়েছিলেন।

তার এই ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে অনেকেই লিখেছিলেন “তোমাকে দেখে ভালো লাগছে যে তুমি সুস্থ আছো, তুমি কাজে কাম ব্যাক করেছ দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। ভালো থেকো”। আবার কেউ লিখেছিলেন “মৃত্যু দুয়ার থেকে ফিরে জীবনের নতুন এই নতুন অধ্যায় আলোকিত হোক তোমার। কেটে যাক সকল কালো মেঘ। ভালো থেকো। কিন্তু সকলের আশীর্বাদ তার সাথে থাকলেও শেষ রক্ষা হলনা।

১লা নভেম্বর ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী। আর তারপরেই কোমায় চলে যান। বেশ কয়েকটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর গত ২০ দিনের জীবন যুদ্ধে হার মানলেন অভিনেত্রী। মাত্র ২৪ বছর বয়সে অকাল প্রয়াণ হল তার। কিন্তু জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেও প্রতিটা মানুষের মন জয় করে গেলেন তিনি। সকলের কাছে রয়ে গেলেন অনবদ্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে।

Related Articles